স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া এবং সাধারণত এটি কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার...See more
সকালে ঘুমের মধ্যে বা ঘুম থেকে ওঠার পর বীর্য বের হওয়া একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া এবং সাধারণত এটি কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ নয়।
প্রধান কারণসমূহ:
* স্বপ্নদোষ (Nocturnal Emissions): এটি সবচেয়ে সাধারণ কারণ, যেখানে ঘুমের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটে। সাধারণত যৌন উদ্দীপক স্বপ্ন বা বিছানার চাদরের সাথে ঘর্ষণের ফলে এটি হয়ে থাকে।
* "ওভারফ্লো" মেকানিজম: কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, যদি বেশ কয়েকদিন বীর্যপাত না ঘটে, তবে শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত বীর্য বের করে দিতে পারে।
* যৌন উত্তেজনা: সকালে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে (যাকে 'মর্নিং উড' বলা হয়)। এর ফলে লিঙ্গ থেকে এক ধরণের স্বচ্ছ পিচ্ছিল তরল (Pre-cum) বের হতে পারে, যা অনেকে বীর্য বলে ভুল করেন।
* অবশিষ্ট বীর্য: যদি ঘুমানোর ঠিক আগে বীর্যপাত হয়ে থাকে, তবে কিছু পরিমাণ বীর্য মূত্রনালীতে থেকে যেতে পারে, যা সকালে প্রথমবার প্রস্রাবের সময় বেরিয়ে আসে।
অপেক্ষাকৃত কম সাধারণ বা চিকিৎসাগত কারণ
যদিও এটি সাধারণত স্বাভাবিক, তবে ক্রমাগত বীর্য চুইয়ে পড়া নিচের বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত হতে পারে:
* প্রস্টেটের সমস্যা: প্রস্টেট গ্রন্থির প্রদাহ (Prostatitis) বা প্রস্টেট বড় হয়ে গেলে নালীতে চাপ সৃষ্টি হয়, যার ফলে অনিচ্ছাকৃত বীর্যপাত হতে পারে।
* স্নায়ুর ক্ষতি: মেরুদণ্ডের আঘাত বা ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
* ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: নির্দিষ্ট কিছু বিষণ্নতা বিরোধী ওষুধ (SSRIs) বা হরমোন থেরাপির কারণে স্বতঃস্ফূর্ত বীর্যপাত বা লিকেজ হতে পারে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
মেট্রোমেল ক্লিনিক এবং হেলথলাইন-এর তথ্যমতে, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
* বীর্য বা প্রস্রাবের সাথে রক্ত দেখা গেলে।
* প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হলে।
* দুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক রঙের (হলুদ বা সবুজ) তরল নির্গত হলে।
* যৌন উত্তেজনা ছাড়াই ঘন ঘন বীর্যপাত হলে যা আপনার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

Comments
Post a Comment