১২ বছরের সেই শিশুর গর্ভে জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ নমুনা স…See more

 


নেত্রকোণার মদন উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ১২ বছরের সেই শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশনায় পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ইতোমধ্যেই ওই নবজাতকের ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু ও তার নবজাতক সন্তান সিলেটের একটি সেফহোমে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।


মামলার প্রধান অভিযুক্ত আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর-এর ডিএনএ নমুনা গত ১৭ মে সংগ্রহ করা হয়েছিল। সিআইডি ল্যাবের পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মামলায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিলেটের সেফহোম থেকে ঢাকার সিআইডি ল্যাবের একটি প্রতিনিধিদল নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে। সিআইডি ল্যাব থেকে ডিএনএ প্রোফাইলিং ও পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হাতে পেলেই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ ও চার্জশিট পেশ করা হবে।


সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই বিকেলে শিশুটির প্রসববেদনা উঠলে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন দিবাগত রাত ১২টার দিকে সে স্বাভাবিক উপায়ে (নরমাল ডেলিভারি) একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেয়। হাসপাতালে ৩ দিন নিবিড় তদারকিতে রাখার পর মা ও শিশুকে সেফহোমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।


মা ও নবজাতকের বর্তমান শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসাসেবা এবং স্বাস্থ্যগত দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন।


প্রসবের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহায়তায় তার নিয়মিত তদারকি করা হয়। প্রসব বেদনা উঠলে আমি নিজে গাইনি বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করি এবং পরবর্তীতে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় ওই শিশুর স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়।’


তবে প্রসবের পর মা ও শিশু দুজনের শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিভিল সার্জন বলেন, একটি ১২ বছরের শিশুর সন্তান প্রসব করা অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। প্রসবের সময় বড় কোনো জটিলতা না হলেও মা ও নবজাতক দুজনই এখনো স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মায়ের বয়স অত্যন্ত কম এবং নবজাতকের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়ায় শিশুটির জন্ডিস, নিউমোনিয়া কিংবা অপুষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ার তীব্র ঝুঁকি থাকে। সিভিল সার্জন অফিসের একটি মেডিকেল টিম তাদের নিয়মিত শারীরিক তদারকি করছে।


মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগ উঠে, শিক্ষক সাগর একাধিকবার শিশুটিকে ধর্ষণ করায় সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। আসামি গ্রেপ্তার হলে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং ১২ মে আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী শিশুটিকে সিলেটের একটি সেফহোমে পাঠানো হয়।

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

15s

⏳ Stay here — your offer will open shortly.
✅ You can go back to this page anytime.

Comments

Popular posts from this blog

কী পরিমা’ণ অ’মানুষ এরা এক’বার ভাবুন! এরা ৩ ভা’ইয়ে মিলে নিজে’র আপ’ন...more

লবঙ্গ খাওয়ার আগে থামুন! লবঙ্গ প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়েটিক...See more

গাজীপুরে ফাইভ মা*র্ডার: মরদেহের ওপর পাওয়া অভিযোগপত্রে যা লেখা ছিল; জনলে অবাক হবেন...... See more