নারীমনের গোপন চাবিকাঠি যা পুরুষদের জানতেই হবে ...See more
~~ নারীমনের গোপন চাবিকাঠি যা পুরুষদের জানতেই হবে ~~
চতুর্থ পয়েন্ট: নারী হৃদয়ের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা
একজন নারী আসলে একজন সঙ্গী ও বন্ধু চায়। একজন নারীর কাছে সেই আদর্শ স্বামী হবেন যিনি তার সেরা বন্ধু। একজন পুরুষের ক্ষেত্রে অবশ্য এটা জরুরি নয়। তার হয়তো বাইরে সেরা বন্ধু আছে, স্ত্রী তার সেরা বন্ধু নয়। মাঝে মাঝে এমন হয়—একজন পুরুষ তার স্ত্রীকে প্রাণের চেয়েও অধিক ভালোবাসে তবে তাকে তার সেরা বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে না।
তাকে বুঝতে হবে যদি তিনি চান তার স্ত্রী তাকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসুক, তবে তাকে অবশ্যই তার সেরা বন্ধু হতে হবে। একজন নারীর কাছে আদর্শ স্বামী হবেন একজন সেরা বন্ধু। আর সেরা বন্ধু কে? যিনি যত্ন নিয়ে আপনার কথা শুনবেন, মনোযোগ দেবেন, আপনাকে সহানুভূতি দেখাবেন।
আমরা শুরু থেকেই এই বিষয়টি বলে আসছি, সম্ভবত এটাই সবচেয়ে সাধারণ বিষয় যা নারী-পুরুষের পার্থক্য নিয়ে সব বইতে উল্লেখ করা হয়—নারীরা আবেগীয় স্তরে সংযোগস্থাপন করতে চায়।
পুরুষ ও নারীরা আসলে ভিন্ন কারণে কথা বলে। একটা সহজ উদাহরণ দিচ্ছি।
যখন একজন পুরুষ কোনো সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে, সে যত কম সম্ভব কথা বলতে চায়। সে চায় না কেউ দীর্ঘ সময় শুনুক। সে সমাধান চায়। সে সহানুভূতি চায় না, কাঁধে মাথা রেখে কাঁদার জন্য কাউকে চায় না, সে শুধু সমাধান চায়।
তাই সে এমন কারো কাছে যাবে যাকে সে জ্ঞান ও অনুপ্রেরণার জন্য সম্মান করে। সে বলবে, ❝আমার সাথে এটা ঘটেছে।❞ তারপর নীরব থেকে প্রতিক্রিয়া চাইবে—❝তুমি এটা করো, ওটা করো।❞ এই সমাধান ও পরামর্শের জন্যই সে কথা বলছে।
এখন, যখন একজন নারী তার স্বামীর কাছে এসে কোনো সমস্যা প্রকাশ করে, সে স্বাভাবিকভাবে পুরুষালি স্বভাবে চলে যায়। সে যতটা সম্ভব কম কথা বলে সমস্যার প্রত্যক্ষ ও স্পষ্ট সমাধান প্রদান করে।
❝তোমার এটা করা উচিত ছিল না। তোমার ওটা করা উচিত। এটা ভুল আর এটাই তোমার সমাধান।❞
নারীর সাথে সমস্যা মোকাবেলার এটা ভুল পদ্ধতি। তাকে যে ধারণা দিচ্ছেন তা হলো আপনি তার আবেগীয় উদ্বেগকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন।
পরেরবার যখন দুজন নারীর সাথে থাকেন, ধরুন আপনার বোন এবং স্ত্রী, অথবা আপনার মা ও তার বান্ধবী। তখন লক্ষ্য করুন তারা কী নিয়ে কথা বলে, কীভাবে যোগাযোগ করে। একই বিষয়ে কতক্ষণ আলোচনা করে, কীভাবে একই জিনিস বারবার বলে। একজন পুরুষের কাছে এটা খুবই বিরক্তিকর, কিন্তু নারীরা একই জিনিস বলবে তো বলবেই, বলতেই থাকবে। একই আলাপ পুরুষের কাছে ২ মিনিটের ব্যাপার, তা নারীদের মধ্যে ২০ মিনিট চলতে থাকে।
একজন পুরুষের কাছে এটা বিরক্তিকর। কারণ আপনি পুরুষ স্বভাব-মেজাজে ভাবছেন। অথচ নারীদের কাছে এটাই ভাব বিনিময় ও যোগাযোগের ভাষা।
একজন নারী এমন কাউকে খোঁজেন যিনি ধৈর্য ধরে শুনবেন, সহানুভূতি দেখাবেন ও তাঁদের অনুভূতি বুঝতে চেষ্টা করবেন। তার প্রতি সহানুভূতি দেখাবে ও সমব্যথিত হবে। নারী এভাবেই সমস্যার সমাধান করে—যাদের সে ভালোবাসে তার সাথে মন খুলে কথা বলার মাধ্যমে। তাঁরা নিজের আবেগ প্রকাশ করেন ও কাছের মানুষদের কাছ থেকে স্বীকৃতি ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
নারীদের কাছে সমস্যাটা যে বিরক্ত করছে তা নয়, বরং সমস্যাটি যে আবেগগুলো সৃষ্টি করেছে সেটাই মূল বিষয়। পুরুষরা আলাদা। পুরুষরা আবেগ নিয়ে কথা বলে না। তারা আবেগ উপেক্ষা করে সমস্যার সমাধা করবে।
নারীদের কাছে এটা আবেগ ❝আমি আহতবোধ করেছি, অপমানিতবোধ করেছি।❞—এটাই মূল বিষয়। তারা সমাধানের আগে সহানুভূতি চায়।
স্বামীরা, বিশ্বাস করুন বা নাই করুন, অনেকসময় স্ত্রী যখন কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, তখন তাঁর প্রয়োজন হয় তাৎক্ষণিক সমাধানের চেয়ে বরং মনোযোগী শ্রোতার। এমন মুহূর্তে সমাধান না দিয়ে শুধু ধৈর্য সহকারে শোনা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করাই স্ত্রীকে অনুভব করায় যে, স্বামী সত্যিকারের সহযোগী হিসেবে তাঁর পাশে রয়েছেন। এটাই স্ত্রীর জন্য সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা ও শক্তির উৎস।
ধরুন তিনি আপনাকে একটা সমস্যার কথা বলে কিছু কথা বলল।
তাকে বলবেন না তার এইভাবে অনুভব করা উচিত নয়। তার বক্তব্যের পক্ষে প্রশ্ন করবেন না। শুধু শুনুন। তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার চেষ্টা করুন। কথা শেষ হলে তাকে জিজ্ঞেস করুন, ❝তুমি কী চাও আমি তোমাকে সমাধান ভাবতে সাহায্য করি?❞ সর্বদা তার প্রতি সহানুভূতি দেখান।
উদাহরণস্বরূপ, যদি সে আহত হয়, তাহলে তাকে আলিঙ্গন করুন, তার হাত ধরে বলুন, ❝হ্যাঁ, এটা নিশ্চয়ই খুবই কষ্টকর ছিল❞ বা ❝সে কীভাবে এটা করতে পারল।❞ শুধু সহানুভূতি দেখান। এটাই প্রথম পর্যায়। সমস্যার সমাধান আসবে কিন্তু প্রথমে আপনাকে আপনার স্ত্রীর বন্ধু হতে হবে।
এটা এমনকিছু যা সত্যিকার অর্থে পুরুষদের খুব কঠিন লাগে। কিন্তু যদি আপনার স্ত্রীর সাথে সত্যিকারের সম্পর্ক চান তাহলে আপনাকে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে শিখতে হবে, তাদের সঙ্গী হতে হবে, খুলে বলতে হবে, প্রকৃত জীবনসঙ্গী হতে হবে। এজন্য নারীরা পুরুষদের থেকে আসলে সময় চান।
নারীদের ভিন্ন একটা ডিকশনারি আছে। তাদের কাছে এর অর্থ; মনোযোগ। অবিভক্ত অবিরাম মনোযোগ।
নারীরা আসলে সমাধান চায় না। তাঁর চাওয়া হলো স্বামী যেন ভালোবাসা ও সহানুভূতির সাথে তাঁর সমস্যার কথা শুনেন। সে চায় কেউ একজন মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শুনুক ও তাঁর অনুভূতি বুঝতে চেষ্টা করুক। সমাধান দেওয়া সবসময় জরুরি নয়। এই ধরনের গুণগত সময় কাটানোই অনেকসময় যথেষ্ট। এর নাম কোয়ালিটি টাইম। আন্তরিকতার সাথে এভাবে বলুন, ❝তোমার এই সমস্যাটি সত্যিই কষ্টদায়ক। ইনশাআল্লাহ আমরা দুজনে মিলে এর একটা সমাধান বের করব।❞
স্ত্রী যা চায় তা দিতে হবে, বিনিময়ে আপনি যা চান আপনার স্ত্রী তা আপনাকে দিবে। এজন্য সময়, সংগীত্ব ও একসাথে নিজেদের মুহূর্ত কাটানো দরকার।
বই : নয়নজুড়ানো ভালোবাসা
বইটি সম্পর্কে পাঠকদের মন্তব্য,
"আলহামদুলিল্লাহ বইটি পড়েছি, নয়ন জুড়িয়েছে, সাথে অন্তরও জুড়িয়েছে, এবং অনেক অজানা বিষয় জেনেছি। আমার মতে বিবাহিতদের জন্য বইটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও অবিবাহিতদের জন্য আরো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ." 💙 ~ Sai Da
"আমি পড়ছি নয়নজুড়ানো ভালোবাসা। দাম্পত্য বিষয়ে এ যাবতকালে পড়া অন্যতম সেরা বই এটাই হবে মনে হচ্ছে।" - আশিকুর রহমান
আমাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে স্থিরতা, প্রশান্তি, প্রোডাক্টিভ ও শৃংখলাপূর্ণ করাটা আল্লাহর রহমত। যেই জীবন আল্লাহ থেকে দূরে, যেই জীবন অস্থিরতায় পূর্ণ, যেই জীবনে প্রশান্তি নেই, সেই জীবনের অর্থ ও পূর্ণতা নেই। আল্লাহ আমাদের জীবনে যেন সেই স্থিরতা ও প্রশান্তি দেন। সেই প্রশান্তি, স্থিরতা ও প্রোডাক্টিভ জীবনের জন্য সংগ্রহ করতে পারেন আমাদের এই বইগুলোঃ
১। নয়নজুড়ানো ভালোবাসা
২ । ডিপ্রেশন - বিষাদের উপত্যকা পেরিয়ে
৩। প্রশান্তির খোজ : ১ উস্তাদ নোমান আলী খান
৪। প্রশান্তির খোজ : ২ উস্তাদ নোমান আলী খান
৫। কীভাবে নামাজের মধুরতা লাভ করা যায়? : মিশারী আল-খারাজ
৬। আমি ও আমার রব : উস্তাদ নোমান আলী খান
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open shortly.
✅ You can go back to this page anytime.

Comments
Post a Comment