প্রতিদিন একটা গ্যাসের (গ্যাস্ট্রিকের) ঔষধ। এভাবেই শুরু হয়েছিল ব্যাপারটা...see more
প্রতিদিন একটা গ্যাসের (গ্যাস্ট্রিকের) ঔষধ। এভাবেই শুরু হয়েছিল ব্যাপারটা।
একজন মাঝবয়সী পুরুষ, একটা ছোটখাটো চাকরি করেন। কাজের চাপে খাওয়ার নিয়ম ঠিক থাকে না, মাঝেমধ্যে পেটে জ্বালাপোড়া করে, বুক জ্বালা করে।
বছর পাঁচেক আগে একবার ফার্মেসি থেকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ (omeprazole জাতীয়) কিনে খেয়েছিলেন। আরাম পেয়েছিলেন সাথে সাথে। এরপর থেকে প্রতিদিন সকালে নাস্তার আগে একটা ট্যাবলেট খাওয়া তার নিয়ম হয়ে গেল, মাঝেমাঝে মিস দেন, কিন্তু প্রায় ই খান। ডাক্তার দেখাননি কখনো, এন্ডোস্কোপি করাননি, শুধু "গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ" নামেই চলতে থাকলো।
একদিন ভাবলেন, এখন তো ভালোই আছি, ওষুধটা বাদ দিই।
দুদিন পরই বুক জ্বালাপোড়া এমন বেড়ে গেল যে সহ্যই করতে পারলেন না। মনে হলো, "গ্যাস্ট্রিক আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে!" ভয় পেয়ে আবার ওষুধ শুরু করলেন, আগে খেতেন ২০, এবার ধরলেন ৪০।
কিন্তু আসলে কী হচ্ছিল শরীরে?
যতদিন পাকস্থলী এসিড কম বানাচ্ছিল, ততদিন শরীর সেই ঘাটতি পূরণ করতে গ্যাস্ট্রিন হরমোন বাড়িয়ে দিচ্ছিল, আর এসিড তৈরির কোষগুলো বাড়তে থাকছিল ভেতরে ভেতরে। ওষুধ বন্ধ করামাত্র সেই বাড়তি কোষগুলো একসাথে বেশি এসিড বানানো শুরু করলো; আগের চেয়েও বেশি। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে rebound acid hypersecretion। কিন্তু এটাকে ওই ব্যক্তি ভাবলেন সমস্যা বেড়েছে।
আসলে ওষুধ বন্ধ করার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছিল এটা।
এভাবেই একটা চক্র শুরু হলো। ওষুধ বন্ধ করলেই কষ্ট বাড়ে, তাই আবার শুরু করতে হয়। বছরের পর বছর এই চক্রেই আটকে রইলেন তিনি, ডোজ বাড়াতে বাড়াতে।
কিন্তু এতদিনে আসল সমস্যাটা কী ছিল, সেটা তিনি জানতোই না। কারণ কখনো এন্ডোস্কোপি করানো হয়নি। ওষুধ খেলেই তো আরাম লাগে, তাহলে পরীক্ষা করানোর দরকার কী। এটাই ছিল তার যুক্তি, যেমনটা আমরা সব বাঙালি ই করি।
তো বিগত কয়েক মাসে উনার ওজন কমতে শুরু করলো, খাওয়ায় অরুচি এলো। একদিন পায়খানার রঙ কালচে দেখলেন। পাত্তা দিলেন না, ভাবলেন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ আরেকটু বাড়িয়ে খেলেই হবে।
কয়েকদিন পর হঠাৎ প্রচণ্ড দুর্বলতা নিয়ে রাস্তায় মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন। হাসপাতালে নেওয়া হলো। রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়লো তীব্র রক্তস্বল্পতা। ডাক্তার কয়েকটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতেই বেরিয়ে এলো গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাওয়ার কথা। একটু স্ট্যাবল হওয়ার পর উনার এন্ডোস্কোপি করা হলো।
রিপোর্ট দেখে ডাক্তার যা বললেন, সেটাই সবচেয়ে কষ্টের কথা। পাকস্থলীতে একটা ঘা অনেকদিন ধরে রক্তক্ষরণ করছিল, চিকিৎসা ছাড়া, নিঃশব্দে। বছরের পর বছর গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ শুধু ব্যথাটা চাপা দিয়ে রেখেছিল, আসল সমস্যাটা কখনো ধরা পড়েনি।
কয়েক ব্যাগ রক্ত দিতে হলো। কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হলো। ভাগ্য ভালো ছিল বলে এই যাত্রায় বেঁচে ফিরলেন - কিন্তু ডাক্তার স্পষ্ট বলে দিলেন, আর কয়েক সপ্তাহ দেরি হলে হয়তো এই গল্পটা অন্যরকম হতো।
এই গল্পটা ব্যতিক্রম না। আমাদের দেশে অসংখ্য মানুষ মুড়ি-মুড়কির মতো গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খান। প্রেসক্রিপশন ছাড়া, বছরের পর বছর, কোনো কারণ বা পরীক্ষা ছাড়াই।
কেন এটা বিপজ্জনক?
- বছরের পর বছর না জেনে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেলে rebound acidityর চক্রে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- দীর্ঘদিন এই ওষুধ খেলে শরীরে ম্যাগনেসিয়াম আর ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি হতে পারে, হাড়ও দুর্বল হতে পারে।
- সবচেয়ে বড় বিপদ হলো পাকস্থলীর আসল সমস্যা (যেমন আলসার, ইনফেকশন, এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত) ওষুধের কারণে চাপা পড়ে থাকে, ধরা পড়তে দেরি হয়ে যায়।
গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ প্রয়োজনে অবশ্যই খাবেন, কিন্তু ইচ্ছেমতো নয়। বারবার বুক জ্বালাপোড়া করলে, ওজন কমলে, পায়খানার রঙ কালচে হলে, বা রক্ত বমি হলে সাথে সাথে ডাক্তার দেখান, নিজে নিজে ওষুধ বাড়াবেন না। যেকোনো সমস্যায় ফিজিক্যালি একজন ডাক্তার দেখিয়ে ভালোভাবে ইভালুয়েট করুন এবং ডাক্তারের প্রেস্ক্রিপশন সঠিকভাবে ফলো করুন এবং সমস্যা ভালো না হলে একই ডাক্তারের কাছেই আবার যান।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।
সবাই সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন।
~ শাহরিয়ার, MBBS Finaly Year
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open shortly.
✅ You can go back to this page anytime.

Comments
Post a Comment