রংপুরে চার খু'/নে'/র বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁ*দলো পু*লিশ ক'মিশনার!🥲 সবাইকে মে'//'রে গোসল করে খেজুর ও শসাও খায় দুই খু'**নী...See More
রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। তিনি বলেন, নিহত ১২ বছর বয়সী শিশুটির বয়সী তার নিজেরও একটি ছেলে রয়েছে—এ কারণেই হত্যাকাণ্ডের নির্মমতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা পরস্পরের মামাতো-ফুফাতো ভাই এবং নিহতদের বাড়ির আশপাশেই বসবাস করতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আগে দুই অভিযুক্ত ওই বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন। শব্দ পেয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গেলে তাদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এরপর তাকে হত্যা করা হয়। পরিবারের অন্য সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে একে একে তাদেরও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
চারজনকে হত্যার পরও বাড়িতেই অবস্থান
সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, চারজনকে হত্যার পরও অভিযুক্তরা সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়নি। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা দীর্ঘ সময় ওই বাড়িতেই অবস্থান করে। এরপর বাথরুমে গিয়ে গোসল করে এবং ফ্রিজ থেকে শসা ও খেজুর বের করে খায়। পরে আবার ইয়াবা সেবন করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে খেজুরের বিচি ও অর্ধেক খাওয়া শসার আলামত পান। এসব আলামত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করেছে। খেজুরের বিচি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য অভিযুক্তরা বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখে। আলমারি ও ড্রয়ার খুলে কাপড়সহ বিভিন্ন সামগ্রী ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একটি স্বর্ণের চুড়ি আসল নাকি নকল, সেটি পরীক্ষা করতে আগুনে পোড়ানোর আলামতও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, লুট করা স্বর্ণালংকার পরে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন আলামত, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য এবং অন্যান্য সূত্র মিলিয়ে দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়। এরপর তাদের আটক করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে চারজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন।
তদন্তে আরও কেউ জড়িত কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য, উদ্ধার হওয়া আলামত এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহত পরিবারের স্বজনের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।
একটি পরিবারের চার সদস্যের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে রংপুরজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হত্যার পরও অভিযুক্তদের ওই বাড়িতে অবস্থান, গোসল করা, খাবার খাওয়া এবং পরে আলামত নষ্টের চেষ্টা করার অভিযোগ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ কমিশনারের আবেগঘন বক্তব্যও ঘটনাটির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তিনি জানান, নিহত শিশুটির বয়সী তার নিজেরও একটি সন্তান রয়েছে। সেই শিশুটিকেও হত্যার ঘটনায় বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open shortly.
✅ You can go back to this page anytime.

Comments
Post a Comment